দুর্বলতা বোধ হলেই কি আমাদের ভিটামিন খাওয়া উচিত?

দুর্বলতা বোধ হলেই কি আমাদের ভিটামিন খাওয়া উচিত?


বিভিন্ন ভিটামিনের কৌটার প্রতি সাধারণ মানুষ খুবই আগ্রহী। দুর্বল লাগা, শরীর-হাত-পা ব্যথা, হাত-পা জ্বালা-পোড়া ইত্যাদি নানা অজুহাতে অনেকেই ভিটামিন, ক্যালসিয়াম ইত্যাদি খেতে চান। এমনকি কখনও কখনও তিনি ডাক্তারকে ভিটামিন প্রেসক্রাইব করতে বলেন। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরাও পরামর্শ দেন, "আমি এই ভিটামিনটি খাই, আপনিও খেয়ে দেখুন।"

কিন্তু অপ্রয়োজনে যেকোনো ওষুধ সেবন শরীরের জন্য ক্ষতিকর। ভিটামিন, ক্যালসিয়াম, আয়রন আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যের অংশ, কিন্তু এগুলো দিনের পর দিন, মাসের পর মাস দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ হিসেবে গ্রহণ করলে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

শারীরিক দুর্বলতার জন্য যারা এ ধরনের ওষুধ খান তাদের অনেকেরই এ ধরনের ওষুধের প্রয়োজন হয় না; বরং ক্ষতি বা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। জেনে রাখা ভালো যে পুষ্টির অভাব শরীরের জন্য যতটা ক্ষতিকর, তার বেশি হওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই শারীরিক দুর্বলতার কারণ যে কোনো শারীরিক অসুস্থতা। পুষ্টির অভাবে শরীর দুর্বল হয় না। তাই হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া বা দুর্বলতা, ক্লান্তি, মাথা ঘোরা ইত্যাদি উপসর্গের কারণ জানা জরুরী কারণ জানার চেষ্টা না করে ভিটামিন সেবন করলে মূল রোগ শনাক্ত হবে না। ফলে রোগ জটিল হওয়ার সুযোগ থাকবে।

আবার পুষ্টির ঘাটতি হলে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান ছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে এসব ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়। এই উপাদানগুলির আধিক্যের কারণে ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যেমন মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, ক্ষুধামন্দা, বমি, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। এমনকি ওষুধ দুর্বলতা, ক্লান্তি এবং অবসাদ সৃষ্টি করতে পারে। শরীরের কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে। কিডনি এবং লিভারের কর্মক্ষমতা ব্যাহত হতে পারে। পেটে ব্যথা, শরীর ব্যথা, ওজন হ্রাস, ঘুমের সমস্যা, অতিরিক্ত তৃষ্ণা, অতিরিক্ত প্রস্রাব, ঝাপসা দৃষ্টি, চুল পড়া, চুলকানি, ঠোঁট ফাটা ইত্যাদি স্বল্প বা দীর্ঘমেয়াদী ভিটামিন গ্রহণের কারণে হতে পারে।

অনেকে শরীর ব্যথার জন্য দিনের পর দিন ক্যালসিয়াম খেতে থাকেন। কিন্তু শরীরে ক্যালসিয়ামের মাত্রা বেড়ে গেলে এই অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম শরীরের ভেতরে কোথাও জমতে পারে। পিত্তথলি বা কিডনিতে পাথর হতে পারে।

যদি দুর্বলতার কারণ হিসেবে পুষ্টির ঘাটতি চিহ্নিত করা হয়, তাহলে চিকিৎসক একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পরিপূরকের মাঝারি ডোজ গ্রহণের পরামর্শ দিতে পারেন। কিন্তু পুষ্টির অভাবের পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। সেই কারণ খুঁজে না পেলে ঘাটতি থেকেই যাবে।

লৌহ-সংবাদ

আয়রন ট্যাবলেট সাধারণত গর্ভবতী এবং স্তন্যদানকারী মহিলাদের জন্য প্রয়োজন। যাইহোক, রক্তস্বল্পতা শুধুমাত্র আয়রন বড়ি গ্রহণের সুবিধা নয়। রক্তাল্পতা বিভিন্ন ধরনের আছে। সব ধরনের অ্যানিমিয়া আয়রনের অভাবের কারণে হয় না। তাই আয়রন খেলে সব রক্তশূন্যতা সেরে যায় না। আয়রন ডেফিসিয়েন্সি অ্যানিমিয়ার কারণ খুঁজে পাওয়া না গেলে তার অবস্থা জটিল হতে পারে।

আয়রন নেওয়ারও নিয়ম আছে। আয়রন ট্যাবলেটের সাথে টক খাবার খেলে শরীরে আয়রন ভালোভাবে শোষিত হয়। আপনি যখন অন্য কিছু খাবারের সাথে আয়রন খান তখন বিপরীতটি ঘটে। এছাড়াও, অন্যান্য ওষুধের সাথে আয়রন গ্রহণ করলে ওষুধের কার্যকারিতা হ্রাস পেতে পারে। তাই আয়রন নেওয়ার সিদ্ধান্ত কখনই নিজের থেকে নেওয়া উচিত নয়।

ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি।

কিছু ক্ষেত্রে, কিছু লোককে দীর্ঘ সময়ের জন্য ভিটামিন ডি বা ক্যালসিয়াম গ্রহণের প্রয়োজন হতে পারে। যেমন বয়স্ক মানুষ, পোস্টমেনোপজাল মহিলা, দীর্ঘস্থায়ী অস্টিওপোরোসিসযুক্ত ব্যক্তিরা। আবার, ডাক্তাররা সাধারণত একটি নির্দিষ্ট ডোজ বা ডোজ লিখে দেন।

প্রতিটি ভিটামিনের নিজস্ব ডোজ এবং সময়কাল রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, অনেকে মাসের পর মাস ভিটামিন ডি গ্রহণ করেন। কিন্তু কখনও রক্তে ডি-এর মাত্রা পরীক্ষা করেননি। তাহলে আপনি কত দিন কত ইউনিট খাবেন, আপনি না জেনেই খাচ্ছেন। এর ফলে ভিটামিন ডি টক্সিকোসিস হতে পারে। ক্যালসিয়ামের ক্ষেত্রেও তাই। অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম জমে গেলে বিপদ।

আমি একটি সুষম খাদ্য চাই

সুস্থ থাকার জন্য সুষম খাবার গড়ে তোলা আরও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন আপনাকে প্রয়োজনীয় পরিমাণে সমস্ত প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণ করতে হবে। পরিবারের শিশু, মহিলা ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ নজর দিন। শিশুরা অনেক সময় পছন্দের খাবার না পেলে খেতে চায় না। বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও একই কথা বলা যেতে পারে। পরিবারের নারী সদস্যরা আবার সবার পুষ্টি নিশ্চিত করতে নিজেদের যত্ন নেন না। কেউ দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভুগলেও অপুষ্টিতে ভুগতে পারে

সকলের সুষম পুষ্টি ও খাদ্যাভ্যাস নিশ্চিত করতে পারলে ওষুধ হিসেবে ভিটামিন বা অন্যান্য পুষ্টি গ্রহণের প্রয়োজন নেই। তা ছাড়া যারা অন্যান্য রোগের কারণে বিভিন্ন ওষুধ সেবন করেন তাদের জন্য এসব ভিটামিন কিনতে গিয়ে অহেতুক খরচ করা কঠিন।

সোর্সঃ- prothomalo

পরবর্তী পোস্ট পূর্ববর্তী পোস্ট
মন্তব্য নেই
মন্তব্য যোগ করুন
comment url