আসুন কাঁচা আমের অসাধারণ কিছু উপকারী গুণগুলো জেনে নেই

আসুন কাঁচা আমের অসাধারণ কিছু উপকারী গুণগুলো জেনে নেই


কাঁচা ও পাকা আম উভয়ই শরীরের জন্য উপকারী কাঁচা আম বা আমের রসে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকায় এটি প্রচণ্ড গরমেও শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। কাঁচা আমে রয়েছে উপকারী ভিটামিন সি এবং ম্যাগনেসিয়াম। আসুন জেনে নিই কাঁচা আমের আরও কিছু উপকারী গুণাগুণ।

কাঁচা ও পাকা আম উভয়ই শরীরের জন্য উপকারী কাঁচা আম বা আমের রসে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকায় এটি প্রচণ্ড গরমেও শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। কাঁচা আমে রয়েছে উপকারী ভিটামিন সি এবং ম্যাগনেসিয়াম। আসুন জেনে নিই কাঁচা আমের আরও কিছু উপকারী গুণাগুণ।

কাঁচা আমের উপকারিতা

আম খেতে পছন্দ করেন না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর! আম কাঁচা হোক বা পাকা হোক আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী। অনেক ক্ষেত্রে কাঁচা আম পাকা আমের চেয়ে বেশি পুষ্টিকর। কাঁচা হোক বা পাকা, আম আমাদের শরীরকে সুস্থ ও রোগমুক্ত রাখতে সাহায্য করে। জেনে নিন আমের কিছু উপকারিতা-

১. কাঁচা আম ক্যারোটিন এবং ভিটামিন এ সমৃদ্ধ। যা দৃষ্টিশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে, রাতকানা থেকে রক্ষা করে এবং চোখকে সুস্থ রাখে।

২. আমে রয়েছে ভিটামিন 'বি' কমপ্লেক্স। এই ভিটামিন শরীরের কেন্দ্রে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়ায়। শরীরকে সতেজ রাখে। ঘুম আনতে সাহায্য করে।

৩. আম ভিটামিন সি সমৃদ্ধ। কাঁচা আমে পাকা আমের চেয়ে বেশি ভিটামিন সি থাকে।

৪. আম খনিজ লবণে সমৃদ্ধ। আমের খনিজ লবণ দাঁত, নখ, চুল মজবুত করতে এবং হজম শক্তি বাড়াতে উপকারী ভূমিকা পালন করে।

৫. প্রতিদিন আম খাওয়া শরীরের ক্ষয় রোধ করে এবং ঘূলতা কমায় এবং শরীরের গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করে।

৬. আম খাওয়া স্থূলকায় ব্যক্তিদের রক্তে শর্করার মাত্রা কমায় এবং শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

৭. ত্বকের যত্নেও আম খুবই উপকারী। আম খেলে লোমের গোড়া পরিষ্কার হয়। ফলে ব্রণ উপশম হয় এবং ত্বক উজ্জ্বল হয়।

৮. কাঁচা আমে প্রচুর আয়রন থাকায় রক্তশূন্যতার সমস্যা দূর হয়। দৃষ্টিশক্তি বাড়াতেও সাহায্য করে কাঁচা আম। দাঁতের রোগ প্রতিরোধ করে। কিডনির সমস্যা প্রতিরোধে সাহায্য করে। লিভার সুস্থ রাখে, পটাশিয়ামের ঘাটতি পূরণ করে এবং অ্যাসিডিটি নিয়ন্ত্রণ করে।

রক্তের সমস্যা দূর করতে

কাঁচা আমে প্রচুর পরিমাণে আয়রন বা লৌহ থাকায় এটি রক্তস্বল্পতার সমস্যা সমাধানে বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে।

বুক জ্বালাপোড়া উপশম করতে

যারা বুকজ্বালা বা অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য কাঁচা আম উপকারী হতে পারে। তাই এক টুকরো কাঁচা আম মুখে নিয়ে অ্যাসিডিটির সমস্যা কমাতে পারেন।

বমি বমি ভাব দূর করতে

অনেক লোক, বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলারা, ঘুম থেকে ওঠার পর সকালের অসুস্থতা অনুভব করেন। তাদের এই সমস্যা দূর করতেও সাহায্য করতে পারে কাঁচা আম।

বিকেলের ঝিমুনি দূর করতে

গ্রীষ্মের বিকেলে খাওয়ার পরে সাধারণত হালকা ঝাঁকুনি অনুভূত হয়। কাঁচা আমে শক্তি বেশি থাকে তাই দুপুরের খাবারের পর কয়েক টুকরো কাঁচা আম খেলে ঝিমুনি উপশম হতে পারে।

ওজন কমাতে কাঁচা আম

শরীরের জন্য কাঁচা আমের কোনো ক্ষতিকর দিক নেই। কাঁচা আমে পাকা মিষ্টি আমের তুলনায় কম চিনি থাকে যা ওজন কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া যারা শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ করতে চান তাদের জন্য এই মৌসুমে কাঁচা আম হতে পারে আদর্শ ফল।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে কাঁচা আম

খাদ্য হজমে কাঁচা আমের ভূমিকা রয়েছে। কাঁচা আম অন্ত্র পরিষ্কার রাখতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। এতে রয়েছে গ্যালিক অ্যাসিড যা হজম প্রক্রিয়াকে দ্রুত করে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে আমকে টুকরো টুকরো করে লবণ ও মধু দিয়ে খাওয়া হয়।

লিভার বা যকৃতের সমস্যা দূর করতে

লিভারের রোগ সারাতে কাঁচা আম হতে পারে প্রাকৃতিক বন্ধু। কয়েক টুকরো কাঁচা আম চিবিয়ে খেলে পিত্তরস বাড়ে। এটি লিভারের স্বাস্থ্যের উন্নতি করে এবং অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ দূর করে।

ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করতে

কাঁচা আমে চিনির পরিমাণ কম থাকে। তাই ডায়াবেটিস রোগীরা কাঁচা আম খেতে পারেন। কাঁচা আম ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে।

দাঁতের রোগ প্রতিরোধে কাঁচা আম

কাঁচা আম শরীরের প্রয়োজনীয় ভিটামিন সি প্রদানে বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারে। স্কার্ভি এবং মাড়ি থেকে রক্ত ​​পড়া রোধে কাঁচা আম উপকারী। এটি নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ এবং দাঁতের ক্ষয় রোধ করতেও সাহায্য করে।

 বাজারে এখন সস্তায় প্রচুর কাঁচা আম পাওয়া যাচ্ছে। তাই কাঁচা আমের শরবত আত্মাকে শীতল করে শরীরকে শক্তিশালী করার সুবর্ণ সুযোগ। তবে অতিরিক্ত পরিমাণে কাঁচা আম খেলে ডায়রিয়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে তাই এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।


রেফারেন্স: daktarbhai.com

পরবর্তী পোস্ট পূর্ববর্তী পোস্ট
মন্তব্য নেই
মন্তব্য যোগ করুন
comment url