আসুন আনারসের ১০ টি স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নেই

আসুন আনারসের ১০ টি স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে জেনে নেই
PIXNIO

আনারস একটি রসালো এবং তৃপ্তিদায়ক সুস্বাদু ফল। ফাইবার এবং ক্যালরি ছাড়াও ফলটিতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং পটাসিয়াম রয়েছে। কোলেস্টেরল এবং চর্বিমুক্ত, এটি স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অতুলনীয়। চলুন জেনে নেওয়া যাক আনারসের নানা উপকারিতা সম্পর্কে।

আনারস একটি মিষ্টি, রসালো এবং তৃপ্তিদায়ক সুস্বাদু ফল যা মানবদেহের জন্য খুবই উপকারী। এটি ভিটামিন এ, সি, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং পটাসিয়াম সমৃদ্ধ। ফলটিতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং ক্যালরি রয়েছে। এটি কোলেস্টেরল এবং চর্বি মুক্ত। অতএব, এই ফল স্বাস্থ্য সুরক্ষার সাথে যুক্ত। চলুন জেনে নেওয়া যাক আনারসের উপকারিতা সম্পর্কে-

১. পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করতে:

আনারস একটি পুষ্টিকর ফল। এটি ভিটামিন এ এবং সি, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম এবং ফসফরাস সমৃদ্ধ। এই প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো আমাদের শরীরে পুষ্টির অভাব পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

২. হজমশক্তি উন্নত করতে:

আমাদের হজমশক্তি বাড়াতেও আনারসের জুড়ি নেই। আনারসে রয়েছে ব্রোমেলেন নামক এনজাইম যা হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। তাই বদহজম বা হজমের যেকোনো সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে আনারস খাওয়া যেতে পারে।

৩. ভাইরাসজনিত সর্দি এবং কাশি প্রতিরোধ করতে:

আনারসে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে, যা ভাইরাসজনিত সর্দি-কাশি প্রতিরোধে সাহায্য করে। তাছাড়া জ্বর ও জন্ডিস প্রতিরোধে আনারস খুবই উপকারী। সর্দি, গলা ব্যথা এবং ব্রঙ্কাইটিসের জন্য বিকল্প ওষুধ হিসেবে আনারসের রসও খেতে পারেন।

৪. শরীরের ওজন কমাতে সাহায্য করে:

আনারসে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে। এছাড়াও, যেহেতু এতে কোন চর্বি নেই, তাই পরিমিত পরিমাণে আনারস খাওয়া বা আনারসের রস পান করা শরীরের ওজন কমাতে সহায়ক হতে পারে। তাই আনারস হতে পারে আপনার ওজন নিয়ন্ত্রণের খাবার। এই ফলটি শরীরে রক্ত ​​জমাট বাঁধতে বাধা দেয়। ফলে শিরা ও ধমনীর মাধ্যমে সারা শরীরে রক্ত ​​সঠিকভাবে প্রবাহিত হতে পারে।

৫. দাঁত ও মাড়ি রক্ষায়:

আনারসে ক্যালসিয়াম থাকায় এটি দাঁতের সুরক্ষায় কাজ করে। আনারস নিয়মিত সেবনে দাঁতে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ কম হয় এবং এভাবে দাঁত সুস্থ থাকে। এছাড়া মাড়ির যে কোনো সমস্যা সমাধানে আনারস বেশ কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

৬. চোখের যত্নে আনারস:

আনারস আমাদের “ম্যাক্যুলার ডিগ্রেডেশন” থেকে রক্ষা করে, একটি রোগ যা চোখের রেটিনা ধ্বংসের কারণে ধীরে ধীরে অন্ধত্বের কারণ হয়। আনারসে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন। প্রতিদিন আনারস খেলে এই রোগের ঝুঁকি ৩০ শতাংশ কমে যায়। ফলে আমাদের চোখ সুস্থ থাকে।

৭. ত্বকের যত্নে আনারস:

আনারসে প্রচুর ক্যালরি থাকে যা আমাদের শক্তি জোগায়। এতে থাকা প্রোটিন ত্বকের মৃত কোষ দূর করে, ত্বক কুঁচকে যাওয়া থেকে রক্ষা করে। এ ছাড়া তৈলাক্ত ত্বক, ব্রণসহ যাবতীয় সৌন্দর্য সমস্যায় আনারসের কদর রয়েছে।

৮. হাড় সম্পর্কিত রোগ প্রতিরোধ:

আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম যা হাড় গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া এতে উপস্থিত ম্যাঙ্গানিজ হাড়কে মজবুত করে। তাই খাদ্য তালিকায় পরিমিত পরিমাণ আনারস রাখলে হাড়ের সমস্যাজনিত যেকোনো রোগ প্রতিরোধ করা যায়।

৯। ক্রিমিনাশক হিসেবে:

আনারসের রস ক্রিমিনাশক হিসেবে ভালো কাজ করে। আনারসের রস নিয়মিত খেলে কয়েক দিনের মধ্যে কৃমি বন্ধ হয়ে যাবে। কৃমি থেকে মুক্তি পেতে হলে সকালে খালি পেটে আনারস খেতে হবে।

১০. ক্যান্সার বিরোধী:

ফ্রি র‌্যাডিকেল মানবদেহের কোষে বিরূপ প্রভাব ফেলে, ফলে ক্যান্সার ও হৃদরোগের মতো মারাত্মক রোগ হয়। দেশি আনারসে রয়েছে উচ্চ মাত্রার পানিতে দ্রবণীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন-সি এবং পানিতে দ্রবণীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা শরীরকে ফ্রি-র্যাডিক্যাল থেকে রক্ষা করে। ফলে ক্যান্সার ও হৃদরোগের মতো মারাত্মক রোগ শরীরে শিকড় ধরা থেকে রক্ষা পায়।

আনারসের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

  • আনারসের অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা থাকলেও এটি সবার জন্য উপযুক্ত নয়। অনেকের আনারসের অ্যালার্জি যেমন বিভিন্ন ধরনের চুলকানি, ফুসকুড়ি ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে।

  • আনারসে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক চিনি থাকে যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ক্ষতিকর। আনারসে থাকা অতিরিক্ত চিনি আমাদের শরীরে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায়। তাই ডায়াবেটিক রোগীরা বেশি না খেয়ে সপ্তাহে ২ দিন আনারস খেতে পারেন।

  • আনারস একটি অ্যাসিডিক ফল। তাই খালি পেটে ফল খেলে তীব্র পেট ব্যথা হতে পারে। আনারস ও দুধ একসঙ্গে খাওয়া যাবে না, এটা একটা কুসংস্কার। এখনও পর্যন্ত, আনারস এবং দুধের মধ্যে এমন কোনও রাসায়নিক বিক্রিয়া পাওয়া যায়নি যা একসাথে খেলে মানুষের প্রাণহানি ঘটবে। আজ, দুধ এবং আনারস একসাথে অনেক খাবারে মিশ্রিত হয় এবং সারা বিশ্বে খাওয়া হয়। একজন গ্যাস্ট্রিক রোগী যিনি খালি পেটে আনারসের সাথে দুধ খান তাদের পেটে তীব্র ব্যথার "খাদ্য নিষিদ্ধ" হতে পারে।

  • আনারস রক্ত ​​পাতলা করার ওষুধে ব্যবহৃত হয়। এই ফলটি শরীরে রক্ত ​​জমাট বাঁধতে বাধা দেয়। তাই যারা আনারস খাওয়ার পর এসব সমস্যায় ভোগেন তারা অবশ্যই আনারস থেকে দূরে থাকবেন।

পুষ্টির পাশাপাশি শরীরকে সুস্থ রাখতে আনারস একটি অতুলনীয় ও কার্যকরী ফল। এটি দামেও সস্তা এবং সহজলভ্য। এছাড়া এর বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কোনো ফল রাখা খারাপ নয়। তাই চাইলে প্রতিদিনের খাবারে আনারস রাখা যেতে পারে।


রেফারেন্স: daktarbhai.com

পরবর্তী পোস্ট পূর্ববর্তী পোস্ট
মন্তব্য নেই
মন্তব্য যোগ করুন
comment url