পুষ্টির ভান্ডার বাতাবি লেবুর পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা

পুষ্টির ভান্ডার বাতাবি লেবুর পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা
Needpix.com

বাংলাদেশের সাইট্রাস ফলের মধ্যে বাতাবি লেবু একটি সুপরিচিত পুষ্টিকর ফল। দেশের অনেক স্থানে এটি জাম্বুরা, বাদাবি লেবু নামে পরিচিত। এ দেশের সব অঞ্চলেই কমবেশি এই ফলের চাষ হয়। বাতাবি লেবু ভিটামিন সি সমৃদ্ধ একটি ফল। এতে ১০৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, ৬৩ মিলিগ্রাম লেবু, ৩৪ মিলিগ্রাম কমলা, ৬১ মিলিগ্রাম কামরাঙ্গা, ২ মিলিগ্রাম আমড়া রয়েছে। আমলকি ও পেয়ারা ছাড়া অন্য যেকোনো ফলের চেয়ে বাতাবি লেবুতে বেশি ভিটামিন রয়েছে। ভিটামিন সি একটি অপরিহার্য উপাদান। এর রাসায়নিক নাম অ্যাসকরবিক অ্যাসিড। পুষ্টিবিদদের মতে, প্রতি ১০০ গ্রাম বাতাবি লেবুতে ভিটামিন সি ব্যতীত সমস্ত পুষ্টি রয়েছে, যা ৮.৫ গ্রাম প্রোটিন, ০.৫ গ্রাম ফাইবার, ০.৩ গ্রাম ভিটামিন বি, ০.০৬ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি। ভিটামিন বি, ০.০৪ গ্রাম। মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম-৩৭ মিলিগ্রাম, আয়রন-০.২ মিলিগ্রাম, ক্যারোটিন-১২০ মাইক্রোগ্রাম, পুষ্টির মান-৩৮ কিলোক্যালরি। বাতাবি লেবুতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি, যা রোগ প্রতিরোধ ও নিরাময়ে সাহায্য করে। এই ভিটামিন বিভিন্ন ধরনের ভাইরাল ইনফেকশন, সর্দি-কাশি এবং ফ্লু থেকে রক্ষা করে এবং শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ভিটামিন সি শরীরের ক্ষত দ্রুত নিরাময়ে সাহায্য করে, ত্বককে মসৃণ ও সুস্থ রাখে। এর অভাবে দাঁতের গোড়া থেকে মাড়ি ফুলে যায়, রক্ত ও পুঁজ বের হয়। এই সমস্যাকে স্কার্ভি বলা হয়। স্কার্ভির কারণে দাঁত অকালে নষ্ট হয়ে যায়। গর্ভবতী মা এবং অনাগত সন্তানের সুস্বাস্থ্যের জন্য ভিটামিন সি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাতাবি লেবুতে রয়েছে ভিটামিন সি, ক্যারোটিন, এটি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং শরীরের বার্ধক্য রোধ করতে সাহায্য করে। ভিটামিন সি-এর অভাবে রক্তশূন্যতা ও দুর্বলতা দেখা দেয়, রক্তপাত সহজে বন্ধ হয় না, শিশুদের শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। ভিটামিন সি মৌখিক গহ্বর, পাকস্থলী, ফুসফুস, অগ্ন্যাশয় এবং স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। লেবুতে পর্যাপ্ত পেকটিন থাকায় এটি স্কোয়াশ এবং জেলি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। বাতাবি লেবুর রস ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খুবই উপকারী।

বাতাবি লেবু এক ধরনের টক-মিষ্টি ফল। এটি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ একটি ফল।এর অনেক উপকারিতা রয়েছে। এটি প্রায় সব বয়সের মানুষের প্রিয় ও সুস্বাদু ফল। বাতাবি লেবুকে অনেকে জাম্বুরাও বলে।

বাতাবি লেবুর ভূমিকা:

বাতাবি লেবু বিভিন্ন ভাষায় পমেলো, জাবং, শ্যাডক ইত্যাদি নামে পরিচিত। অপরিষ্কার ফলের বাইরের দিক সবুজ এবং পাকলে হালকা সবুজ বা হলুদ হয়ে যায়। এর ভেতরের শুঁটি সাদা বা গোলাপি রঙের হয়। এর খোসা বেশ পুরু এবং খোসার ভেতরটা ফেনার মতো নরম। এটি সাইট্রাস ফলের মধ্যে বৃহত্তম; যার ব্যাস ১৫-২৫সেমি। এর ওজন ১-২ কেজি।

বাতাবি লেবুর পুষ্টিগুণ:

প্রতি ১০০ গ্রাম ভোজ্য বাতাবি লেবুতে রয়েছে খাদ্যশক্তি ৩৮ কিলোক্যালরি, প্রোটিন ০.৫ গ্রাম, স্নেহ ০.৩ গ্রাম, শর্করা ৮.৫ গ্রাম। খাদ্যতালিকাগত ফাইবার ১গ্রাম, থায়ামিন ০.০৩৪ মিলিগ্রাম, খনিজ লবণ ০.২০ গ্রাম, রিবোফ্লাভিন ০.০২৭ মিলিগ্রাম, নিয়াসিন ০.২২ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি2 ০.০৪ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি6 ০.০৩৬ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ১০৫ মিলিগ্রাম, ক্যারোটিন ১২০ মিলিগ্রাম, ০.৩ মিলিগ্রাম, ০.৩ মিলিগ্রাম, ক্যারোটিন ম্যাগনেসিয়াম ৬ মিলিগ্রাম, ম্যাঙ্গানিজ ০.০১৭ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ১৭ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ২১৬ মিলিগ্রাম এবং সোডিয়াম ১ মিলিগ্রাম।

বাতাবি লেবুর উপকারিতা:

১. ওজন কমাতে সাহায্য করে:

আপনি যদি শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতে চান, তাহলে বাতাবি লেবু খাওয়া আপনার জন্য বাধ্যতামূলক। কারণ লেবুতে রয়েছে ফ্যাট বার্নিং এনজাইম, যা কার্বোহাইড্রেট এবং শর্করা শোষণ করে ওজন কমাতে সাহায্য করে।

২. ক্যান্সার প্রতিরোধ করে:

বাতাবি লেবুতে প্রচুর পরিমাণে বায়োফ্ল্যাভোনয়েড রয়েছে। যা ক্যান্সার কোষের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। বাতাবি লেবু শরীরকে অতিরিক্ত ইস্ট্রোজেন থেকে মুক্ত রেখে স্তন ক্যান্সারের চিকিৎসায় ভূমিকা রাখে। বাতাবি লেবু প্রোস্টেট ক্যান্সার প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

৩. হৃদরোগে উপকারী:

বাতাবি লেবুতে রয়েছে পর্যাপ্ত পটাশিয়াম, ভিটামিন সি। ফলে লেবু রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। আর নিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ হৃদরোগে উপকারী। লেবুর রস রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়।

৪. রক্ত পরিশোধক:

তেতো লেবুতে উপস্থিত পেকটিন ধমনীর রক্তে দূষক পদার্থ জমা হতে বাধা দেয় এবং দূষক পদার্থকে বের করে দিতে সাহায্য করে। লেবুর রস লোহিত রক্তকণিকাকে টক্সিন এবং অন্যান্য দূষণকারী থেকে রক্ষা করে এবং বিশুদ্ধ অক্সিজেন পরিবহনে সাহায্য করে।

৫. হজমের সমস্যায় কার্যকর:

বাতাবি লেবু অ্যাসিডিক প্রকৃতির হওয়ায় হজমে খুবই সহায়ক। খাবার হজমের পর লেবুর রস ক্ষারীয় বিক্রিয়া তৈরি করে হজমে সাহায্য করে।

৬. দাঁত ও মাড়ির রোগ:

বাতাবি লেবুর পাতা দাঁত ও মাড়ির রোগে ব্যবহৃত হয়। বাতাবি লেবুর রস মাড়ির রোগে উপকারী।

৭. ত্বকের সতেজতা বাড়ায়:

বাতাবি লেবু অতিরিক্ত ভিটামিন সি থাকার কারণে ধমনীর স্থিতিস্থাপকতা ও দৃঢ়তা বজায় রাখতে খুবই কার্যকরী। এবং ত্বকের যত্নেও এটি খুবই উপকারী। কারণ, এটি ত্বকে বলিরেখা পড়তে দেয় না। বাতাবি লেবুতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কারণে এটি ত্বকে বার্ধক্যের লক্ষণ দেখায় না।

পুষ্টির ভান্ডার বাতাবি লেবুর পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য উপকারিতা
PxHere


বাতাবি লেবুর ঔষধি গুণাগুণ

পেটের গ্যাস কমায়:

 লেবু এবং জাম্বুরাতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ফাইবার যা ত্বকের বুড়িয়ে যাওয়া রোধ করে। তেতো লেবুতে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড হজমে সাহায্য করে এবং পেটে গ্যাসের প্রকোপ কমায়।

কিডনির কার্যকারিতা বাড়ায়: 

এতে রয়েছে পেকটিন, যা ধমনীর রক্তে দূষিত পদার্থ জমা হতে বাধা দেয় এবং দূষক দূর করতে সাহায্য করে। টক্সিন এবং অন্যান্য দূষণকারী থেকে লোহিত রক্তকণিকা রক্ষা করে এবং বিশুদ্ধ অক্সিজেন পরিবহনে সাহায্য করে।

ক্যান্সার প্রতিরোধ করে: 

বাতাবি লেবুতে প্রচুর পরিমাণে বায়োফ্ল্যাভোনয়েড রয়েছে। যা ক্যান্সার কোষের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করে। বাতাবি লেবু শরীরকে অতিরিক্ত ইস্ট্রোজেন মুক্ত রেখে স্তন ক্যান্সার প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে। বাতাবি লেবু প্রোস্টেট ক্যান্সার প্রতিরোধেও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

হৃদরোগে উপকারী: 

বাতাবি লেবুতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণে পটাশিয়াম, ভিটামিন সি। ফলে লেবু রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। আর নিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ হৃদরোগে উপকারী। লেবুর রস রক্তের কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়।

হজমের সমস্যা সমাধানে কার্যকর: 

অম্লীয় প্রকৃতির কারণে এই ফলটি হজমে খুবই সহায়ক। খাবার হজমের পর লেবুর রস ক্ষারীয় বিক্রিয়া তৈরি করে হজমে সাহায্য করে।

ত্বকের সতেজতা বাড়ায়: 

অতিরিক্ত ভিটামিন সি থাকার কারণে ধমনীর স্থিতিস্থাপকতা ও দৃঢ়তা বজায় রাখতে লেবু খুবই কার্যকরী। আর এটি ত্বকের যত্নেও খুবই উপকারী। কারণ, এটি ত্বকে বলিরেখা পড়তে দেয় না। বাতাবি লেবুতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের কারণে এটি ত্বকে বার্ধক্যের লক্ষণ দেখায় না।

দাঁত ও মাড়ির ক্ষয় রোধ করে: 

বাতাবি লেবু পাতা দাঁত ও মাড়ির ক্ষয় রোধ করতে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া মাড়ির রোগ সারাতে এই ফলের রস খুবই কার্যকরী।

ব্লাড পিউরিফায়ার:

তেতো লেবুতে উপস্থিত পেকটিন ধমনীর রক্তে দূষক পদার্থ জমা হওয়া রোধ করে এবং দূষক পদার্থকে দূর করতে সাহায্য করে। লেবুর রস লোহিত রক্তকণিকাকে টক্সিন এবং অন্যান্য দূষণকারী থেকে রক্ষা করে এবং বিশুদ্ধ অক্সিজেন পরিবহনে সাহায্য করে।

বাতাবি লেবু কখন পাওয়া যায়?

টক-মিষ্টি ফলটি সাধারণত ভাদ্র-আশ্বিন মাসে বাংলাদেশের সব অঞ্চলেই পাওয়া যায়। কিন্তু শ্রাবণের মাঝামাঝি থেকে বাজারে আসতে শুরু করে এই ফল। কার্তিক মাসের শেষ পর্যন্ত বাতাবি লেবু পাওয়া যায়। এখন বাজারে প্রচুর বাতাবি লেবু পাওয়া যায়। দেশি ফল হওয়ায় এর দামও কম। তাই আজই আপনার খাদ্যতালিকায় যোগ করতে পারেন বাতাবি লেবু।

রেফারেন্স: dailynayadiganta.com/
agricare24.com/
bangladeshtimes.com
পরবর্তী পোস্ট পূর্ববর্তী পোস্ট
মন্তব্য নেই
মন্তব্য যোগ করুন
comment url