গ্যাস্ট্রিক এর ঔষধ ওমিপ্রাজল এর কাজ কি এবং পার্শপ্রতিক্রিয়া কি কি?

গ্যাস্ট্রিক এর ঔষধ ওমিপ্রাজল এর কাজ কি এবং পার্শপ্রতিক্রিয়া কি কি?

ওমিপ্রাজল হচ্ছে মূলত একটি প্রতিস্থাপিত বেনজিমিডাজল জাতীয় ঔষধ, যা গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিড নিঃসরণ প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করতে পারে। এটি মূলত গ্যাস্ট্রিক প্যারিটাল কোষে হাইড্রোজেন-পটাসিয়াম-অ্যাডিনোসিন ট্রাইফসফেট এনজাইম সিস্টেম (H + / K + ATPase) কে বাধা দিয়ে গ্যাস্ট্রিক অ্যাসিডের নিঃসরণকে প্রতিরোধ করে। এই মেডিসিনের অ্যান্টি-অ্যাসিড নিঃসরণ কার্যকলাপ শুরু হয় সেবনের ১ ঘন্টার মধ্যে, ২ ঘন্টার মধ্যে এটি সর্বাধিক কার্যকলাপে পৌঁছায় এবং ৭২ ঘন্টা পর্যন্ত এটির কার্যকলাপ স্থায়ী হয়। এটির কার্যকলাপ বন্ধ হয়ে গেলে, অ্যাসিড নিঃসরণ এর প্রক্রিয়া ৩-৫ দিনের মধ্যে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে শুরু করে।

উপাদান ও সরবরাহ:-

প্রতিটি ওমিপ্রাজল ট্যাবলেট/ক্যাপসুলে উপাদান হিসেবে আছে ২০/৪০ মি.গ্রা. এন্টেরিক কোটেড পিলেট হিসেবে। এবং আইভি হিসেবে আছে ৪০ মি. গ্রা. ভায়াল যা শিরাপথে ব্যবহারের জন্য।

নির্দেশনা:-

ডিওডেনাল আলসার, গ্যাস্ট্রিক আলসার,নন-স্টেরয়ডাল প্রদাহরোধী ঔষধ দ্বারা চিকিৎসা করার ফলে সৃষ্ট জটিলতা, হ্যালিকোব্যাকটার পাইলোরি সংশ্লিষ্ট পেপটিক আলসার, গ্যাস্ট্রো-ইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স জনিত রোগ, জোলিঞ্জার-এলিসন সিনড্রোম (অত্তদীক গ্যাস্ট্রিক এসিড নিঃসরণ জনিত জটিলতা), অতিরিক্ত এসিড নিঃসরণের লক্ষণসমূহের প্রতিরোধক চিকিৎসা, এসিড রিফ্লাক্স রোগ, গ্যাস্ট্রিক এসিডের আধিক্য জনিত বদহজমে ওমিপ্রাজল নির্দেশিত হয়।

ওমিপ্রাজল সেবনমাত্রা ও সেবনবিধিঃ-

* প্রাপ্তবয়স্ক সর্বাধিক কার্যকারিতার জন্য রোগীকে খাবার খাওয়ার ৩০ মিনিট আগে ওমিপ্রাজল মেডিসিন সেবন করার পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রাপ্তবয়স্ক ছাড়া এই ট্যাবলেট/ক্যাপসুল সেবনের কোন নির্দেশনা দেয়া হয়নি।

বিনাইন গ্যাস্ট্রিক (মারাত্মক নয় এমন) গ্যাস্ট্রিক ও ডিওডেনাল আলসার: ডিওডেনাল আলসার ক্ষেত্রে ওমিপ্রাজল ২০ মি.গ্রা. দিনে একবার করে ৪ সপ্তাহ এবং গ্যাস্ট্রিক আলসারের ক্ষেত্রে ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত সেব্য। তবে রোগের তীব্রতা অথবা পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রে সেবন মাত্রা দৈনিক ৪০ মি.গ্রা. পর্যন্ত দেয়া যেতে পারে। ডিওডেনাল আলসার পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রে দীর্গমেয়াদী চিকিৎসায় ২০ মি.গ্রা. করে দিনে একবার সেব্য। ডিওডেনাল আলসার পুনরাবৃত্তির প্রতিরোধক চিকিৎসায় দৈনিক ১০-২০ মি.গ্রা. দিনে একবার সেব্য।

নন-স্টেরয়ডাল প্রদাহরোধী ঔষধ দ্বারা চিকিৎসার ফলে সৃষ্ট জটিলতা: নন-স্টেরয়ডাল প্রদাহরোধী ঔষধ দ্বারা চিকিৎসার ফলে সৃষ্ট ডিওডেনাল আলসার অথবা গ্যাস্ট্রিক আলসার এবং গ্যাস্ট্রো-ডিওডেনাল ক্ষয় সাধনের ক্ষেত্রে ২০ মি.গ্রা. দিনে একবার ৪ সপ্তাহ পর্যন্ত সেব্য, তবে অসম্পূর্ণ নিরাময়ের ক্ষেত্রে এই সেবন মাত্রায় আরো ৪ সপ্তাহ পর্যন্ত সেব্য। যেসব রোগী পূর্বেই নন-স্টেরয়ডাল প্রদাহরোধী ঔষধ দ্বারা চিকিৎসার ফলে সৃষ্ট ডিওডেনাল আলসার অথবা গ্যাস্ট্রিক আলসার, গ্যাস্ট্রো-ডিওডেনাল জনিত ক্ষত, অথবা বদহজমের লক্ষণসমূহে ভুগছে এবং তাদের যদি নন-স্টেরয়ডাল প্রদাহরোধী ঔষধের চিকিৎসা বহাল থাকে, সেক্ষেত্রে প্রতিরোধক হিসাবে ২০ মি.গ্রা. দিনে একবার সেব্য।

গ্যাস্ট্রো-ইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স রোগ: ওমিপ্রাজল ২০ মি.গ্রা. দিনে একবার ৪ সপ্তাহ পর্যন্ত নির্দেশিত, তবে অসম্পূর্ণ নিরাময়ের ক্ষেত্রে এই সেবনমাত্রা ৪-৮ সপ্তাহ পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে। অন্যান্য চিকিৎসায় ব্যর্থ গ্যাস্ট্রো-ইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স রোগের ক্ষেত্রে ৪০ মি.গ্রা. দিনে একবার ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত সেব্য। পরবর্তীতে ২০ মি.গ্রা. দিনে একবার দেয়া যেতে পারে।

জোলিঞ্জার-এলিসন সিনড্রোম: প্রাথমিকভাবে ওমি-প্রাজল ৬০ মি.গ্রা. (৪০+২০ মি.গ্রা.) দিনে একবার সেব্য। স্বাভাবিক মাত্রা হলো ২০-১২০ মি.গ্রা. (৮০ মি.গ্রা. এর উপরে দুইটি বিভক্ত মাত্রায়)।

সমস্ত শরীরে চেতনাহীনতার সময় অতিরিক্ত গ্যাস্ট্রিক এসিড নিঃসরণ কমানো (অতিরিক্ত এসিড নিঃসরণের প্রতিরোধক চিকিৎসা): রোগীকে অস্ত্রোপচারের পূর্ববর্তী সন্ধ্যায় ওমি-প্রাজল ৪০ মি.গ্রা. এবং তারপর অস্ত্রোপচারের ২-৬ ঘন্টা পূর্বে ৪০ মি.গ্রা. সেব্য। গ্যাস্ট্রিক এসিডের পুননিঃসরণ জনিত (এসিড রিফ্লাক্স) রোগ (দীর্গমেয়াদী চিকিৎসা): দৈনিক ওমি-প্রাজল ১০-২০ মি.গ্রা. দিনে একবার সেব্য।

গ্যাস্ট্রিক এসিডের আধিক্য জনিত বদহজম: ঔষদের কার্যকারিতা অনুযায়ী ওমি-প্রাজল ১০-২০ মি.গ্রা. দিনে একবার ২-৪ সপ্তাহ পর্যন্ত সেব্য।

বৃক্ক অথবা যকৃতের কার্যকারিতায় জটিলতা: বৃক্কের জটিলতায় সেবন মাত্রা পরিবর্তনের কোন প্রয়োজন নেই. যকৃতের তীব্র রোগে ভুগছে এমন রোগীদের ক্ষেত্রে দৈনিক ওমি-প্রাজল ২০ মি.গ্রা. এর বেশি দেয়া যাবে না।

শিশু (২ বৎসরের উর্ধে)

রিফ্লাক্স ইসোফ্যাগাইটিস জনিত তীব্র আলসার এর ক্ষেত্রে দৈনিক ওমিপ্রাজল ০.৭-১.৪ মি.গ্রা./ কেজি, ৪-১২ সপ্তাহ পর্যন্ত সেব্য। সর্বোচ্চ সেবনমাত্রা দৈনিক ৪০ মি.গ্রা. (তবে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা আরম্ভ করতে হবে)।

বয়োবৃদ্ধ (৬০ বছরে উর্ধে)

বয়োবৃদ্ধদের ক্ষেত্রে ওমিপ্রাজল সেবন মাত্রা পরিবর্তনের কোন প্রয়োজন নেই. অথবা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সেব্য।

প্রতিনির্দেশনা:-

ঔষধটির যেকোন উপাদানের প্রতি অতি সংবেদনশীল রোগীদের ক্ষেত্রে ওমিপ্রাজল ব্যবহার করা নিষেধ। এক্ষেত্রে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

সতর্কতা:

ওমিপ্রাজল দ্বারা আলসারের লক্ষণসমূহ দূরীভূত হলেও ম্যালিগনেন্সির অনুপস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত হয় যাবেনা। যখন গ্যাস্ট্রিক আলসার ধারণা করা হয় তখন এটি দ্বারা চিকিৎসা শুরু করার পূর্বে ম্যালিগনেন্সি আছে কিনা তা পরীক্ষা করা উচিৎ, কারণ এটি ম্যালিগনেন্সির লক্ষণসমূহ উপশম করতে পারে ফলে ম্যালিগনেন্সি নির্ণয়ে বিঘ্ন ঘটতে পারে।

গর্ভবস্থায় ও স্তন্যদানকালে ব্যবহার:-

গর্ভবতী মহিলাদের উপর ওমিপ্রাজল এর যথেষ্ট পরিমান ও সুনিয়ন্ত্রিত কোন সমীক্ষা নেই. গর্ভবস্থায় ভ্রণের সম্ভাব্য বিপদ এবং রোগীর ঔষধ সেবনে প্রাপ্ত সুবিধার কথা বিবেচনা করে এটি সেবন করা উচিত। মাতৃদুগ্ধে এটি নিঃসরণ হয় তাই রোগীর নিকট এই ঔষধের গুরুত্ব বিবেচনা করে ঔষধ সেবন বন্ধ বা শিশুকে দুগ্ধদান বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত।

পার্শপ্রতিক্রিয়া:-

ওমিপ্রাজল সবার শরীরেই খুব ভালোভাবে সহনীয়। কিন্তু খুব কম ক্ষেত্রে বমি বমি ভাব, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা, পেতে ব্যাথা, ঘুম ঘুম ভাব, মাথা ব্যাথা, ত্বকে লালসা ভাব দেখা দিতে পারে।

অন্যান্য ঔষধের সাথে ক্রিয়া:-

ওমিপ্রাজল ব্যবহারের সময় ডায়াজিপাম, ফিনাইটয়িন এবং ওয়ারফারিন এর নিঃসরণ বিলম্বিত হয়। যখন এটি দ্বারা চিকিৎসা আরম্ভ হয় তখন ওয়ারফারিন এবং ফিনাইটয়িন এর মাত্রা কমানোর প্রয়োজন হয়. থিওফাইলিন, প্রোপানোলল অথবা এন্টাসিড এর সাথে এটির ইন্টারেকশনের কোন প্রমান নেই।

রেফারেন্সঃ

bn.wikipedia.org

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url