অতিরিক্ত খাওয়া শরীর মোটা হওয়ার কারণ নয়! জরিপ বলছে

সায়েন্স ডেইলি বলে, আমাদের দৈনন্দিন খাবারে অতিরিক্ত গ্লাইসেমিক খাবার ওজন বৃদ্ধির প্রধান কারণ। যেসব খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায় তাদের বলা হয় গ্লাইসেমিক খাবার। প্রক্রিয়াজাত খাবার, বিশেষ করে অল্প সময়ে দ্রুত হজম হওয়া শর্করা, শরীরের ওজন বাড়ায়।

অতিরিক্ত খাওয়া কি মোটা হওয়ার প্রধান কারণ?

শরীরের অতিরিক্ত ওজন বা মোটা হওয়ার প্রধান কারণ খাবার অতিরিক্ত খাওয়া নয়। নতুন গবেষণায় জানা গেছে যে, স্থূলতার মহামারীর জন্য আধুনিক খাদ্যাভ্যাস দায়ী। আমরা ইদানিং ঘরের খাবারের চেয়ে বাহিরের খাবারকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছি। যেসব খাবারে থাকে প্রচুর পরিমানে কোলেস্টেরল যা শরীর মোটিয়ে যাওয়ার প্রধান কারণ।

প্রক্রিয়াজাত খাবার, বিশেষ করে অল্প সময়ে দ্রুত হজম হওয়া শর্করা, গ্লাইসেমিক খাবারের অন্যতম উদাহরণ। এই খাবারগুলি খেলে মানবদেহে হরমোনের নিঃসরণ প্রভাবিত হয়, যা আমাদের বিপাককে আমূল পরিবর্তন করতে পারে। ফলস্বরূপ, শরীরে চর্বির পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, ওজন বৃদ্ধি পায়, ব্যক্তি মোটা হয়।

গবেষণায় প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী দ্য আমেরিকান জার্নাল অফ ক্লিনিক্যাল নিউট্রিশানে।

ইউএস সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) বিজ্ঞানীরা বলছেন, আমেরিকান জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের বেশি মানুষ শারীরিক স্থূলতার শিকার। তাদের মধ্যে হৃদরোগ, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, টাইপ টু ডায়াবেটিস এবং কিছু ধরনের ক্যান্সারে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে।

মার্কিন কৃষি বিভাগের নাগরিকদের জন্য ২০২০-২০২৫ খাদ্যতালিকাগত নির্দেশিকা বলছে যে, ওজন কমানোর জন্য প্রাপ্তবয়স্কদের উচ্চ-ক্যালোরিযুক্ত খাবার এবং কোমল পানীয় গ্রহণ কমিয়ে আনতে হবে। এবং নিয়ম মেনে প্রতিদিন ব্যায়াম বাড়াতে হবে।

নির্দেশিকাগুলি স্বাস্থ্য বজায় রাখার ক্ষেত্রে ওজন নিয়ন্ত্রণের শত শত বছরের পুরনো দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিফলিত করে।

আধুনিক সময়ে, মানুষ খুব সুস্বাদু, বিপুল জনপ্রিয় এবং বাজারে সস্তা প্রক্রিয়াজাত খাদ্য দ্বারা বেষ্টিত। প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ক্যালোরি খাওয়া খুবই সহজ। এই ভারসাম্যহীনতা শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার জীবনচর্চায় অভ্যস্ততার কারণে দ্বারা আরও বেড়ে যায়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা কয়েক দশক ধরে বলছেন যে দৈনন্দিন জীবনে কম খাবার এবং বেশি ব্যায়াম অন্তর্ভুক্ত করতে হবে, কিন্তু মানুষ তা আমলে নিচ্ছে না। ফলস্বরূপ, স্থূলতা এবং অতিরিক্ত ওজনের মতো স্বাস্থ্য জটিলতা বাড়ছে।

গবেষকরা বলছেন, আধুনিক যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য খাদ্যের ভারসাম্য রক্ষার জন্য বিকল্প খুঁজে বের করতে হবে।

উদাহরণস্বরূপ, শর্করা-ইনসুলিন গণনা করা তালিকায় স্থূলতা এবং অতিরিক্ত ওজন বেশি প্রকট ও স্পষ্ট হয়ে উঠছে; এটি দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর ওজন নিয়ন্ত্রণ কৌশল গ্রহণেও সহায়তা করে। তাই আমাদের সকলকে নিজের ভালো থাকার কথা চিন্তা করে স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহন করতে হবে।

রেফারেন্সঃ

ntvbd.com

dw.com/bn

newsbangla24.com

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url